সুবোধ সরকার একজন আধুনিক কবি। সমালোচকরা বলেন তাঁর কবিতায় আছে গভীর অন্তর্দৃষ্টি ও মানবিকতা, যা কখনো শ্লেষাত্মক, কখনো সরাসরি ও সংবেদনশীল। আজকের আলোচনা এই আধুনিক কবিকে নিয়েই।
সুবোধ সরকার পরিচিতি
কবির জন্ম ১৯৫৮ খ্রীষ্টাব্দে, নদীয়ার কৃষ্ণনগরে। কবির দাম্পত্যসঙ্গিনী বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্টা কবি মল্লিকা সেনগুপ্ত। পেশায় তিনি অধ্যাপক। ‘ভাগানগর’ পত্রিকায় বর্তমানে সম্পাদকরূপে আসীন।
সুবোধ সরকারের প্রথম কবিতার বই প্রকাশিত হয় সত্তরের দশকে। এ পর্যন্ত কুড়িটি কবিতার বই লিখেছেন, জিতেছেন দুটি পুরস্কার, কবিতার জন্য দেশ-বিদেশ সফর করেছেন।
কাব্যগ্রন্থ
১. ঋক্ষমেঘ (১৯৮২)
২. সোহাগ শর্বরী (১৯৮৫)
৩. একা নরকবাসী (১৯৮৮)
৪. মরুভূমির গোলাপ (1১৯৯০)
৫. চন্দ্রদোষ ওষুধে সারেনা (১৯৯১)
৬. আড়াই হাত মানুষ (১৯৯২)
৭. ছি: (১৯৯৬)
৮. ভালো জায়গাটা কোথায় (১৯৯৬)
৯. ধন্যবাদ মরীচিকা সেন (১৯৯৬)
১০. জারুজালেম থেকে মেদিনীপুর (২০০১)
>মনিপুরের মা
>কাল্লু
কবির মৌলিকত্ব
সত্তর দশকের কাব্যঘরানায় একটু আলাদা স্বাদ ও নিজস্বতা নিয়েই কবি সুবোধ সরকারের আবির্ভাব। দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা কবির কবিতায় বারবার এসে ভিড় করেছে। তাঁর কবিতায় আছে গভীর অন্তর্দৃষ্টি, মানবিকতা, যা কখনো শ্লেষাত্মক, কখনো সরাসরি ও সংবেদনশীল।
বিখ্যাত আবৃত্তিযোগ্য কবিতা
তারঁ বিখ্যাত আবৃত্তিযোগ্য ‘শাড়ি’ কবিতার কয়েকটি পংক্তিটি-
“বিয়েতে একান্নটা শাড়ি পেয়েছিল মেয়েটা
অষ্টমঙ্গলায় ফিরে এসে আরো ছটা
এত শাড়ি একসঙ্গে সে জীবনে দেখেনি।
… … …
কিন্তু সেই থানও এক ঝটকায় খুলে নিল তিনজন
পাড়ার মোড়ে
একটি সদ্য নগ্ন বিধবা মেয়ে দৌড়াচ্ছে আর চিৎকার
করছে; ‘বাঁচাও’
পেছনে তিনজন, সে কী উল্লাস, নির্বাক পাড়ার লোকেরা|”
সন্মান
১৯৯৯ সালে তিনি অনীতা সুনীল বসু পুরস্কার পান।

