বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী কারা ? কী তাঁদের পরিচয় ? এই আলোচনায় এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যাবে। আসলে বৃন্দাবনের ছয় জন গোস্বামী বা গোঁসাইকে একত্রে বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী বলা হয়। কিন্তু তাঁরা কারা ?
বৃন্দাবনের ষড়গোস্বামী
গৌড়ীয় বৈষ্ণব সমাজে গোস্বামী রঘুনাথ ভট্ট, গোস্বামী রঘুনাথ দাস, গোস্বামী গোপাল ভট্ট, সনাতন গোস্বামী, রূপ গোস্বামী ও জীব গোস্বামী – এই ছয় জনকে একত্রে ছয় গোঁসাই বা ষড়গোস্বামী বলা হয়। কৃষ্ণদাস কবিরাজ তাঁর ‘শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত’ গ্রন্থে লিখেছেন –
“শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ
এই ছয় গোসাঞ্চির কবি চরন বন্দন
যাহা হইতে বিঘ্ন নাশ অভীষ্ট পূরণ।”
ষড়গোস্বামীর প্রথম পরিচয় পাই শ্রীনিবাস এর রচনায় –
“শ্রীরূপ সনাতন ভট্ট রঘুনাথ ।
শ্রীজীব গোপাল ভট্ট দাস রঘুনাথ ।।”
উদ্ধৃতিটির উৎস কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত গ্রন্থ। জীব গোস্বামী সম্ভবত প্রত্যক্ষভাবে চৈতন্যদেবের সংস্পর্শে আসেন নি। ষড়গোস্বামীদের ভ্রাতৃদ্বয় হলেন রূপ গোস্বামী ও সনাতন গোস্বামী। জীব গোস্বামী এদের ভ্রাতুষ্পুত্র। রঘুনাথ দাস ছাড়া সকলেই ব্রাহ্মণ ছিলেন। বোধহয় রঘুনাথ দাস ছিলেন বাঙালি।
সনাতন গোস্বামী
ইনি ছিলেন রূপ গোস্বামীর অগ্রজ ও সুলতান হুসেন শাহের “সাকর মল্লিক”। তাঁর পিতা কুমারদেব, ঠাকুরদা – পদ্মনাভ। ১৪৮৯ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৫৫৮ সালে ইহলোক ত্যাগ করেন। সনাতন গোস্বামী চৈতন্যদেবের কাছে বৈষ্ণব ধর্মের দীক্ষা গ্রহণ করেন।
তাঁর গ্রন্থ সমূহ – বৃহৎভাগবতামৃত, দিগদর্শিনী, হরিভক্তিবিলাস, বৈষ্ণবতোষণী (এটি ভাগবতের দশম স্কন্ধের টীকা)
শ্রীজীব গোস্বামী
জীব গোস্বামী রূপ গোস্বামীর নিকট বৈষ্ণব ধর্মের দীক্ষা গ্রহণ করেন। তিনি ১৫৫৮ সালে জন্মগ্রহণ করেন। গৌড়েশ্বর কবিকে ‘অনুপম মল্লিক’ উপাধি দান করেন। শ্রীজীব গোস্বামীর গ্রন্থ সমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য – গোপালচম্পু, সংকল্পকল্পদ্রুম, মাধব মহোৎসব ও গোপালবিরুদাবলী।
তাঁর ব্যাকরণ রস শাস্ত্র হল – লোচনরচনী, দুর্গমসঙ্গমনী, রসামৃতশেষ, হরিনামামৃত ব্যাকরণ, সূত্রমালিকা।
আর বৈষ্ণব স্মৃতি ও ধর্মতত্ত্ব বিষয়ক গ্রন্থগুলি হল – ব্রহ্মসংহিতা, গোপালতাপনী, লঘুতোষনী, কৃষ্ণার্ঘদীপিকা, ক্রমসন্দর্ভ।
শ্রীজীব গোস্বামীর বৈষ্ণব দর্শন বিষয়ক গ্রন্থ ভাগবত সন্দর্ভ বা ষট সন্দর্ভ ও সর্বসংবাদিনী।
গোপাল ভট্ট
চৈতন্যদেব দাক্ষিণাত্য ভ্রমণ কালে গোপাল ভট্টের সঙ্গে পরিচিত হোন। গোপাল ভট্ট ১৫০০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। ১৫৮৭ সালে তিনি মারা যান। তাঁর গুরুদেবের নাম প্রবোধানন্দ। কৃষ্ণকর্ণামৃত গ্রন্থের টীকা ‘কৃষ্ণবল্লভা’র রচয়িতা গোপাল ভট্ট ও এই গোপাল ভট্ট একই ব্যক্তি কিনা সে নিয়ে বিস্তর বিতর্ক রয়েছে । “হরিভক্তিবিলাস ‘নামক গ্রন্থের দায়িত্ব গোপাল ভট্টের উপর অর্পিত হলেও অনেকের ধারণা এর প্রকৃত রচয়িতা সনাতন গোস্বামী।
রঘুনাথ ভট্ট
পূর্ববঙ্গ ভ্রমণ কালে চৈতন্যদেবের প্রথম ভক্ত ছিলেন তপন মিশ্র। গোস্বামী রঘুনাথ ভট্ট ছিলেন শ্রীচৈতন্যের প্রথম প্রত্যক্ষ শিষ্য তপন মিশ্রের পুত্র। তিনি নির্লোভ, সংযমী ও সুকন্ঠের অধিকারী ছিলেন। তিনি শ্রীচৈতন্যকে ভাগবত পাঠ করে শোনাতেন, রান্না করে সেবা দিতেন। তাঁর নামে কোনো গ্রন্থ পাওয়া যায় না।
রঘুনাথ দাস
রঘুনাথ দাস সপ্তগ্রামের জনৈক কায়স্থ ভূম্যধিকারীর সন্তান ছিলেন। ইনি গৃহত্যাগ করে নীলাচলে মহাপ্রভুর সান্নিধ্যে কালাতিপাত করেন। তিনি ১৪৯৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
রঘুনাথ দাসের গ্রন্থ সমূহ হল – বিলাপকুসুমাঞ্জলি, স্তবমালা, মুক্তাচরিত্র ও দানকেলী চিন্তামণি।
বাংলা সাহিত্যের নানা তথ্য হাতের মুঠোয় পেতে Google Play Store থেকে ইনস্টল করে নিন আমাদের মোবাইল অ্যাপ – mBook বাংলা সাহিত্য ও ব্যাকরণ।’ নীচের বাটনে ক্লিক করে ডাউনলোড করুন।


